চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় মো. শহিদুল করিম মানিক (৪২) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বিক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় তীব্র পেটব্যথা নিয়ে উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মেখল আবদুর রশিদ সারেং বাড়ির মৃত নুরুচ্ছালামের ছেলে এবং পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. শহিদুল করিম মানিককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়। রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই চিকিৎসকের চরম অবহেলার অভিযোগ তুলে তার আত্মীয়-স্বজনেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ইনডোর ওয়ার্ড ও লেবার রুমসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভাঙচুর শুরু করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার জানান, রোগীকে যথাসময়ে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হবে। ভাঙচুরের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, উত্তেজিত স্বজনদের ছোড়া ইটপাটকেল ও জানালার ভাঙা কাচ সরাসরি লেবার রুমে থাকা একজন প্রসূতি মা ও নবজাতকের গায়ে এসে পড়ায় তারা আহত হয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান জানান, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভাঙচুরের পর তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা যৌথভাবে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন