জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশের মধ্যকার এই কথোপকথনটি ট্রাইব্যুনালে শোনানো হয়, যেখানে ওবায়দুল কাদেরকে পরশকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, "কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন?"
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এই অডিও ফোনালাপটি জনসমক্ষে আনা হয়। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত ওই ফোনালাপে দেখা যায়, ওবায়দুল কাদেরের কথার জবাবে শেখ পরশ তাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে তিনি শারীরিকভাবে বাইরে থাকলেও প্রতিটা মুহূর্তে মানসিকভাবে এবং সার্বিকভাবে দলের সাথেই যুক্ত রয়েছেন। পরশ জানান যে তিনি নির্দিষ্ট তারিখের আগেই দেশ ছেড়ে গেলেও প্রতিটি দিন নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন এবং দলের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত আছেন।
কথোপকথনের একপর্যায়ে ওবায়দুল কাদের তাকে মিছিলে জনসমাগম বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে বলেন যে আগামীকালের র্যালিতে যেন সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এর জবাবে শেখ পরশ বলেন যে তারা সে অনুযায়ী পুরোপুরি প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং সব জায়গায় বলে দিচ্ছেন। ফোনালাপটির শেষাংশে ওবায়দুল কাদের তাকে বিশেষভাবে ফোন করার কারণ স্পষ্ট করেন এবং পরশ সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে কলটি শেষ করেন।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা আসামি হিসেবে রয়েছেন। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
মন্তব্য করুন