মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে পাকিস্তানে ফের বাড়ানো হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী তিন দিনের জন্য প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৫ টাকা ৪৪ পয়সা এবং হাই-স্পিড ডিজেলের (এইচএসডি) দাম ৩১ টাকা ৫ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঘোষণার পর পাকিস্তানে প্রতি লিটার পেট্রোলের নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩১৬ টাকা ১৫ পয়সা এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৩৫৪ টাকা ৩৫ পয়সা।
জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতার মধ্যেই পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক একটি বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রমাগত ওঠানামা সামাল দিতে এখন থেকে প্রতিদিন জ্বালানির দাম নির্ধারণ করবে অয়েল অ্যান্ড গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটি (ওগ্রা)। ওগ্রা তাদের ওয়েবসাইটে শুধু নতুন দামই প্রকাশ করবে না, বরং প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে বিক্রিত মূল্যের পেছনে যৌক্তিক কারণও উল্লেখ করবে। সরকার বর্তমানে প্রতিটি লিটার জ্বালানির ওপর শুল্ক, পেট্রোলিয়াম লেভি এবং অন্যান্য চার্জসহ প্রায় ১০৫ টাকা কর আদায় করছে।
পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে অল পাকিস্তান ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির আশঙ্কা, প্রতিদিন দাম পরিবর্তনের ফলে ব্যবসায়িক ও সাধারণ জনগণের ওপর চাপ বাড়বে, যার প্রতিবাদে তারা আগামী সপ্তাহে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে গত এপ্রিলে সরকার ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি সরবরাহের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নিলেও বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশটিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানে প্রতি মাসে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টন পেট্রোল ও ডিজেল ব্যবহৃত হয়, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে আর কী ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে কি আপনি আরও কিছু জানতে আগ্রহী?
মন্তব্য করুন