যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা মারাত্মক আকার ধারণ করায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নিজেদের সকল নাগরিককে অবিলম্বে ওই অঞ্চল ছেড়ে চলে আসার কড়া আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাওয়ায় দেশটির সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
গত রোববার (১৯ জুলাই) ইরান ও ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের মোট ১৭টি দেশের কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি করে। ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রে অবস্থানরত দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ নাগরিক এবং বাণিজ্যিক জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলোর বর্তমান সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম জিনা সাংবাদিকদের জানান, ‘মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশই গত মার্চ মাস থেকে লেভেল-৩ ভ্রমণ সতর্কতার আওতাধীন রয়েছে। তাই একান্ত জরুরি কোনো প্রয়োজন না থাকলে সেখানে অবস্থানরত স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণকারী ও প্রবাসীদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে দেশটি ত্যাগ করার জোরালো পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে চলমান সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লোহিত সাগরের কৌশলগত জলপথে চলাচলকারী দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে।’
দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি এশিয়ার আরেকটি অর্থনৈতিক পরাশক্তি ভারতও তাদের নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরান সফর সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইরানে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস থেকে জারি করা এক নতুন সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে যারা ইরানে অবস্থান করছেন, তারা বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকা সাপেক্ষে সাময়িকভাবে দেশটি ত্যাগ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুন। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জর্ডানে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদেরও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সব ধরনের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে পাকিস্তানের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং চলমান সংঘাতের চিরতরে অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটায় গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ফের এক মারাত্মক যুদ্ধের আবহ ও তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন