প্রাথমিক পর্যায়ের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুখবর নিয়ে এসেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আর্থিক সুবিধার পরিমাণ দ্বিগুণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) শাহীনা ফেরদৌসী জানিয়েছেন, আগামী ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা থেকে নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই বর্ধিত হারে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবে।
বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থী এককালীন ২২৫ টাকা এবং প্রতি মাসে ৩০০ টাকা করে ভাতা পেয়ে থাকে। এছাড়া সাধারণ ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীরা পায় এককালীন ২২৫ টাকা এবং মাসিক ২২৫ টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পরীক্ষা থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা এককালীন ৪৫০ টাকা এবং মাসিক ৬০০ টাকা পাবে। একইভাবে সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তিপ্রাপ্তরা এখন থেকে এককালীন ৪৫০ টাকা এবং মাসিক ৪৫০ টাকা হারে ভাতা পাবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই বৃত্তি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কার্যকর থাকে। এদিকে, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেছেন। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভের গৌরব অর্জন করেছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রীর হার কিছুটা বেশি, যা মেধার স্বাক্ষর বহন করে।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ১০০ নম্বরের হয়ে থাকে এবং এর সময়কাল ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান এই চারটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হয়। আর্থিক সুবিধা দ্বিগুণ করার এই সরকারি উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও বেশি উৎসাহিত করবে এবং মেধা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক অনুদান দ্বিগুণ করার এই সরকারি উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে কতটা প্রভাব ফেলবে বলে আপনি মনে করেন?
মন্তব্য করুন