ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে থামানো যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই দুঃস্বপ্ন। রোববার (১৯ জুলাই) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টাইন এই জাদুকরকে নিষ্ক্রিয় করতে স্পেনের সামনে এখন বড় পরীক্ষা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসিকে আটকাতে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির প্রয়োগ করা কৌশলটিই স্পেনের জন্য হতে পারে আদর্শ মডেল।
২০১৪ ফাইনালে তৎকালীন জার্মান কোচ জোয়াকিম লো মেসিকে একক ম্যান-মার্কিংয়ে আটকে রাখার ঝুঁকি নেননি। এর পরিবর্তে তিনি তৈরি করেছিলেন একটি চলন্ত ‘জোনাল কেজ’ বা রক্ষণাত্মক খাঁচা। মেসির পজিশন অনুযায়ী নিকটবর্তী ডিফেন্ডাররা তাকে চেপে ধরতেন এবং তার পাসিং লেনগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিতেন। অনেকটা রিলে রেসের মতো এক ডিফেন্ডার থেকে অন্য ডিফেন্ডারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করার মাধ্যমে মেসিকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল জার্মানি। এছাড়া বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগারের মতো মিডফিল্ডার মাঝমাঠে মানবঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে মেসির সাপ্লাই লাইন বিচ্ছিন্ন করেছিলেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির সেই শোয়াইনস্টাইগারের ভূমিকাটি পালন করতে হবে স্পেনের মাঝমাঠের জেনারেল রদ্রিকে। বিশ্বসেরা এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ওপরই নির্ভর করবে স্পেনের রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা। মেসিকে বোতলবন্দি করতে রদ্রির তিনটি মূল অস্ত্র হতে পারে কার্যকরী। প্রথমত, নিজের অসাধারণ পজিশনাল অ্যাওয়ারনেসের মাধ্যমে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝখানের পকেট স্পেসে মেসির কাছে বল পৌঁছানোর রাস্তা বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত, বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে মেসি বল পাওয়ার আশায় নিজের অর্ধের দিকে নেমে যেতে বাধ্য হন। তৃতীয়ত, আর্জেন্টিনার ঝোড়ো কাউন্টার-অ্যাটাক রুখতে বুদ্ধিদীপ্ত প্রেসিং ও কৌশলগত রক্ষণ।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার শারীরিক ফুটবল ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনোভাব সামলানোই স্পেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। খেলার উত্তেজনায় মেসিকে ঘিরে রদ্রি যদি সফলভাবে তার ‘জোনাল কেজ’ তৈরি করতে পারেন, তবে আর্জেন্টিনার আক্রমণের ধার অনেকটাই কমে আসবে। তবে রদ্রিগো ডি পলের মতো খেলোয়াড়রা স্প্যানিশ ফুটবলারদের মেজাজ বিগড়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এই মানসিক লড়াইয়ে স্পেন যদি নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তবে ২০১৪ সালের জার্মান কৌশলের প্রয়োগে স্পেনের জন্য শিরোপা জয়ের পথ প্রশস্ত হতে পারে। ঐতিহাসিক এই ফাইনালে ‘লা রোখা’ কি পারবে মেসি-বন্দনা রুখে দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
মন্তব্য করুন