ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যকার ম্যাচটিতে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে রেফারিং সংক্রান্ত এক বিতর্কিত ঘটনা। ম্যাচের ১৪ মিনিটের মাথায় বায়ার্ন মিউনিখের উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রির গোড়ালিতে স্টাড তুলে যে ট্যাকলটি করেন, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বল রদ্রির আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ার পরও ওলিসের পেছন থেকে করা এই বেপরোয়া ট্যাকলটি সরাসরি রদ্রির পায়ে আঘাত করে, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখা যায় এই তারকাকে।
বিশ্বকাপের মতো আসরে এমন একটি বড় ঘটনার পরও রেফারি কোনো কার্ড না দেখানোয় সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্লেষকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচবার অ্যাসিস্ট করা ওলিসের মতো একজন সৃজনশীল খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এমন আগ্রাসী আচরণে অনেকেই ক্ষুব্ধ। তবে সাবেক রেফারি মার্ক হ্যালসি এই সিদ্ধান্তের সপক্ষে কিছুটা ভিন্নমত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি একটি ফাউল ছিল এবং বড়জোর হলুদ কার্ড হতে পারত। তার মতে, লাল কার্ডের জন্য যে মাত্রায় বাড়তি শক্তি বা খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা বিপন্ন করার বিষয়টি থাকা প্রয়োজন, ওলিসের ট্যাকলে হয়তো সেটি ছিল না।
এই ঘটনার পর থেকেই ফ্রান্সের জন্য ম্যাচটি দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে ওঠে। ঘটনার পরপরই মিকেল ওইয়ারসাবালের পেনাল্টি গোলে স্পেন এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে উইলিয়াম সালিবার চোট ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে আরও দুর্বল করে দেয় এবং দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরোর দ্বিতীয় গোলটি ফ্রান্সের ফাইনালের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত স্পেন ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করলেও, ওলিসের এই ট্যাকল ও রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এখন দেখার বিষয়, ফাইনালে ওঠার অপেক্ষায় থাকা ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচের আগ পর্যন্ত এই আলোচনার ঢেউ কতটা দূর গড়ায়।
মন্তব্য করুন