চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কাতারের মুখোমুখি হয়েছিল কানাডা ফুটবল দল। ম্যাচটিতে কানাডা বড় জয় নিশ্চিত করলেও দলটির জন্য নেমে এসেছে এক চরম দুঃসংবাদ। ম্যাচের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ ফুটবলারের মারাত্মক ফাউলের শিকার হয়ে পা ভেঙে মাঠ ছাড়তে হয়েছে কানাডার তারকা ফুটবলার ইসমায়েল কোনেকে। এই ভয়ানক চোটের কারণে বর্তমানে তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারই বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। কোনের এমন মর্মান্তিক বিদায়ের পর কানাডা শিবিরের সবাই ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়লেও, শেষ পর্যন্ত নিজেদের ছন্দ ধরে রেখে ম্যাচটি জিতে মাঠ ছাড়ে জেসি মার্শের শিষ্যরা।
ম্যাচ চলাকালীন কাতারের ফুটবলারদের অতি আক্রমণাত্মক মনোভাবের কারণে মাঠেই বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। প্রথম অর্ধে তাজন বুকাননকে ফাউল করার অপরাধে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন কাতারের হোমাদ আল আমিন। এরপর দ্বিতীয় অর্ধে ইসমায়েল কোনেকে মারাত্মকভাবে ফাউল করার জেরে কাতারের আসিম মাদিবো সরাসরি লাল কার্ড পান। পরপর দুই খেলোয়াড় লাল কার্ড পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ৯ জনের দল নিয়েই ম্যাচ শেষ করতে হয় কাতারকে। ম্যাচ শেষে অবশ্য আসিম মাদিবো কানাডার ড্রেসিংরুমে গিয়ে দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন। তবে কোচ জেসি মার্শের মতে, ফাউলটি ইচ্ছাকৃত না হলেও কাতারের ডাগআউটের কিছু আচরণ তাঁর কাছে মোটেও বোধগম্য ছিল না।
ইসমায়েল কোনে যখন স্ট্রেচারে শুয়ে মাঠ ছাড়ছিলেন, তখনো তিনি সমর্থকদের প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছিলেন, যা কোচ মার্শকে মুগ্ধ করেছে। তবে দ্বিতীয়োর্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের সময় ডাগআউটে নিজের আবেগ আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি কানাডীয় কোচ। পরবর্তীতে কোনের বদলি হিসেবে মাঠে নামা নাথান সালিবা দলের চতুর্থ গোলটি করার পর, চোটাক্রান্ত সтивной ইসমায়েল কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে মাঠেই তাঁর প্রতি অনন্য সংহতি ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
কোনের এমন ইনজুরিতে পুরো দল মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও কোচ জেসি মার্শ বেশ আশাবাদী। তিনি বিশ্বাস করেন, ইসমায়েল কোনে এই কঠিন সময় পার করে আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে ফিরবেন এবং ভবিষ্যতে একটি দুর্দান্ত ক্যারিয়ার গড়বেন। তিনি তাঁর ছেলেদের আগে থেকেই বলেছিলেন যে, ইসমায়েল সবসময় চাইবে দল যেন মাঠের লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যায় এবং কানাডার ফুটবলাররা ঠিক সেটাই মাঠে করে দেখিয়েছে।
মন্তব্য করুন