নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববার দিবাগত রাতে ফুটবলের এক উত্তেজনাকর লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছে বিশ্ব। ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এই ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। তবে এই দুই দলের দলীয় লড়াই ছাপিয়ে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড এবং ব্রাজিলের রক্ষণভাগের স্তম্ভ গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ। প্রিমিয়ার লিগের মাঠ পেরিয়ে এই দুই তারকার ব্যক্তিগত লড়াই এবার গড়াতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের শ্রেষ্ঠ মঞ্চে।
হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েলের মধ্যে মাঠের লড়াইটা অনেকটা ছোটবেলার সেই যান্ত্রিক যুদ্ধের মতোই, যেখানে শারীরিক শক্তি আর কৌশলের লড়াইয়ে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দিতে নারাজ। তাদের মধ্যকার এই তিক্ততার সূত্রপাত ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলো থেকে। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে গোল উদযাপনের সময় হালান্ডের বল ছুড়ে মারা কিংবা ফিরতি ম্যাচে গ্যাব্রিয়েলের সরাসরি সামনে গিয়ে উদযাপন করার মতো ঘটনাগুলো ফুটবল ভক্তদের মনে গেঁথে আছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ইয়ান রাইটের মতো সাবেক তারকারা একে 'কাপুরুষোচিত' কাজ বলে মন্তব্য করলেও, মাঠের ভেতরে এই দুই খেলোয়াড় বিষয়টিকে কেবল 'ফুটবলীয় যুদ্ধ' হিসেবেই দেখেন।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত তারা আটবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন। মাঠে দীর্ঘ ৭০৬ মিনিট একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তারা। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে ২৬টি সরাসরি ডুয়েলের মধ্যে ১৬ বারই জয়ী হয়েছেন হালান্ড। গ্যাব্রিয়েল রক্ষণভাগে তাকে আটকানোর জন্য সবটুকু শক্তি ঢেলে দিয়েছেন, যার ফলস্বরূপ গত এপ্রিলে এক ম্যাচে হালান্ডের জার্সি ছিঁড়ে যাওয়ার দৃশ্যও দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। তবুও মাঠের বাইরের তিক্ততা ও তিক্ত অভিজ্ঞতার বাইরেও তাদের মধ্যে রয়েছে একে অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। গ্যাব্রিয়েল যেমন হালান্ডকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পছন্দ করেন, তেমনি হালান্ডও মনে করেন গ্যাব্রিয়েলের বিরুদ্ধে খেলাটা সব সময় একটি দারুণ চ্যালেঞ্জ।
আজকের বিশ্বকাপের ম্যাচে এই দুই তারকার ওপরই নির্ভর করছে নিজ নিজ দলের ভাগ্য। হালান্ড যদি গ্যাব্রিয়েলের রক্ষণ দেয়াল ভেঙে গোল বের করে নিতে পারেন, তবে নরওয়ের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন সহজ হবে। অন্যদিকে গ্যাব্রিয়েল যদি হালান্ডকে নিষ্ক্রিয় রাখতে পারেন, তবে ব্রাজিলের জন্য পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হবে। মাঠের এই ব্যক্তিগত লড়াই ও টানটান উত্তেজনার প্রদর্শনী দেখার জন্য এখন অধীর অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
প্রিমিয়ার লিগের এই ব্যক্তিগত রেষারেষি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে কীভাবে প্রভাব ফেলবে বলে আপনি মনে করেন? হালান্ড নাকি গ্যাব্রিয়েল কার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স আজ তাদের দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যাবে? আপনার মতামত শেয়ার করতে পারেন।
মন্তব্য করুন