মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তাদের আকাশসীমায় ধেয়ে আসা ইরানের ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস (ইন্টারসেপ্ট) করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সামরিক বাহিনীর জেনারেল কমান্ড থেকে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে জর্ডানের ‘রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর’-এর বিশেষ দল বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহের কাজ করছে এবং এলাকাগুলোকে নিরাপদ করার জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলছে।
উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পর থেকে ইরান ধারাবাহিকভাবে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। শুক্রবার তেহরান দাবি করেছে যে, তারা কুয়েত, ওমান, সিরিয়া, জর্ডান ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বিমানঘাঁটি ও রাডার ব্যবস্থাসহ বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের এই হামলার প্রেক্ষিতে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইন তাদের আকাশসীমায় আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার তথ্য জানিয়েছে। এমনকি কাতার জানিয়েছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেও বেশ কিছু হামলা নস্যাৎ করা হয়েছে, তবে ধ্বংসাবশেষ পড়ার কারণে সেখানে এক শিশু আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনে গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেও, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে তৈরি হওয়া নতুন উত্তজনা এই শান্তি চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর এই পাল্টাপাল্টি সামরিক মহড়া ও হামলা বর্তমান ভূ-রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মন্তব্য করুন