মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা আলোচনা প্রত্যাশিত গতি না পাওয়ায় বুধবার (১ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই অনিশ্চয়তা তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা পালন করছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৩ সেন্ট বেড়ে ৭৩ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই চিত্র দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের ক্ষেত্রেও, যার দাম ৩৪ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অস্থিরতা বজায় থাকবে।
সম্প্রতি কাতারের দোহায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি থাকলেও ইরান সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করছে। এই পরোক্ষ আলোচনার ধরণটি বিশ্ববাজারে এক ধরনের দ্বিধা তৈরি করেছে। যদিও বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গিয়েছিল যা ছিল ২০০৮ সালের মন্দার পর সবচেয়ে বড় হ্রাস তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সেই ধারায় ছেদ ঘটিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত কমতির দিকে রয়েছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের শেষ সপ্তাহে দেশটির তেলের মজুত প্রায় ৬১ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে, যা দাম বৃদ্ধিতে বাড়তি জ্বালানি জোগাচ্ছে। একদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ি এবং অন্যদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন সব মিলিয়ে বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্যে অস্থিরতা আগামী কয়েকদিন বজায় থাকার পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন বাজারের সবার নজর যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সরকারি মজুত প্রতিবেদনের দিকে।
আপনার কি মনে হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি তেলের বাজারে কোনো বড় প্রভাব ফেলতে পারে?
মন্তব্য করুন