ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া ভয়াবহ যুদ্ধের মাত্র চার দিনেই ইরানে বেসামরিক নাগরিক নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি এনজিও হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি বা ‘হারানা’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই নিহতের তালিকায় ১৮১ জন শিশু রয়েছে যাদের বয়স ১০ বছরেরও কম, যা বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে।
গত কয়েক দিনে ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর শত শত রাউন্ড বোমা বর্ষণে দেশটির সাধারণ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বোমাগুলো কেবল সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আঘাত হেনেছে জনবহুল আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও। চার দিনের এই তাণ্ডবে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৪০২ জনেরও বেশি মানুষ। আহতদের মাঝেও প্রায় ১০০ জন শিশু রয়েছে যারা এখন হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করছে।
হারানা তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হতাহতের প্রচুর তথ্য প্রতিনিয়ত আসছে। তবে যুদ্ধের ডামাডোলে অনেক তথ্য এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংস্থাটি প্রতিটি তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ইরানের বড় শহরগুলোর আকাশে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানবিক সংকট তীব্রতর হচ্ছে।
এই অসম যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বেসামরিক স্থাপনা ও শিশুদের ওপর এই ধরনের আঘাত আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হলেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পুরো অঞ্চলটি এখন এক অনিশ্চিত ও ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন