নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে রবিবার লন্ডনের লর্ডসে বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচটি প্রোটিয়াদের জন্য কেবল জয়ের লড়াই নয়, বরং নেট রানরেট উন্নত করারও চ্যালেঞ্জ। বর্তমান পয়েন্ট টেবিলে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান এমন এক জটিল সমীকরণে আটকে আছে যে, বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেলেও তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের ফলাফলের দিকে। ভারত যদি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পায়, তবে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হতে হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্টের দল বর্তমান আসরে ভারত ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টানা জয়ের মাধ্যমে দারুণ ছন্দে ফিরেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ দল তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানকে পরাজিত করলেও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে হোঁচট খেয়েছে। তবে লর্ডসের মতো ঐতিহাসিক ভেন্যুতে খেলার সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশ দল দারুণ রোমাঞ্চিত। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে বাংলাদেশ তাদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত, যদিও সেমিফাইনালে যাওয়ার দৌড় থেকে তারা ইতোমধ্যেই অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে।
লর্ডসের উইকেট ও কন্ডিশন নিয়ে বেশ সতর্ক দুই দলই। এই ভেন্যুতে পেসারদের জন্য বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ বোলার শাবনিম ইসমাইল ও আয়াবঙ্গা খাকার জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। প্রোটিয়াদের সহকারী কোচ ক্লেয়ার টেরব্লাঞ্চ জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এই মাঠে খেলতে পারাটা দলের খেলোয়াড়দের জন্য একটি দারুণ অভিজ্ঞতা। তারা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ভারত ও নেদারল্যান্ডস ম্যাচে জয়ী অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ দলের সম্ভাব্য একাদশে তেমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। পাকিস্তান জয় ও ভারতের বিপক্ষে লড়াই করার আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা মাঠ কাঁপাতে চায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় পায়নি বাংলাদেশ। তবে যেকোনো অঘটন ঘটিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করার লক্ষ্য বাংলাদেশের। সেমিফাইনালে যাওয়ার পথে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কেবল জয় নয়, বরং রানরেটের বিশাল ব্যবধান পার করার চ্যালেঞ্জ নিয়েই লর্ডসের এই কঠিন লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে।
মন্তব্য করুন