যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বড় ধরনের সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কাস্পিয়ান সাগরে ইরান-সংযুক্ত একটি জাহাজে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনা ঘটার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন আক্রমণ নয়; বরং এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ইরান সংঘাত একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বৃহত্তর সংকটের দিকে এগোচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার প্রচলিত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং কৌশলগত অস্ত্রের মজুদ কমে আসায় মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় পরিসরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হয়তো ইরানকে সরাসরি এককভাবে মোকাবিলা করার পরিবর্তে একাধিক ফ্রন্টে ব্যস্ত রাখার কৌশল নিয়েছে। যদি কাস্পিয়ানের পর ইউক্রেনের দিক থেকে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকে, তবে তেহরানকে তাদের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে সামরিক শক্তি, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করতে বাধ্য হতে হবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
কাস্পিয়ান সাগরে এই হামলার ঠিক পরপরই ওয়াশিংটনে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। একই দিনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের লাইসেন্সভিত্তিক উৎপাদন এবং ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কেবল ইউক্রেনকে অতিরিক্ত সহায়তা দিচ্ছে না, বরং রুশ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ইউক্রেনীয় ড্রোন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে নিজেদের কৌশলগত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ইউক্রেন ও ইরানের মধ্যে কোনো সংঘাত তৈরি হলে তা প্রচলিত ট্যাংক বা স্থলযুদ্ধের পরিবর্তে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা, নাশকতা ও গোয়েন্দা অভিযানের রূপ নিতে পারে। হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জনকারী ইউক্রেনীয় বাহিনী এবং ইরানের কৌশলগত অবস্থানের লড়াই এই অঞ্চলকে নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কাস্পিয়ান, ককেশাস ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলজুড়ে এমন সংঘাতের সম্প্রসারণ ঘটলে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব তুরস্কসহ গোটা ভূরাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন