শারীরিক প্রতিবন্ধী পারভীন আক্তার ও রিকশাচালক স্বামী মনিরুল আলমের দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনের অবসান ঘটতে চলেছে। পলিথিনে মোড়ানো বস্তির মতো ঝুপড়িঘর ছেড়ে এবার তারা সপরিবারে উঠতে যাচ্ছেন সব আধুনিক সুবিধা সংবলিত বহুতল আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে। কক্সবাজারের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমন ৭৩০টি পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করা হয়েছে।
রোববার জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই লটারিতে নিজের ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার পর আবেগাপ্লুত পারভীন বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমি এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।’ একইভাবে জেলে রেজাউল করিমের পরিবারও এই আনন্দে শামিল হয়েছে। তাদের মতে, কোনোদিনই তারা বহুতল ভবনে বসবাসের এমন সুযোগ পাওয়ার কল্পনা করতে পারেননি।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। মোট ৪ হাজার ১২৮টি বাস্তুচ্যুত পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১২৯টি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ১২২টির কাজ শেষ হয়েছে। এর আগে ১৯টি ভবনে ৬০০ পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল এবং এবার নতুন করে ৭৩০টি পরিবারের ফ্ল্যাট নম্বর নির্ধারণ করা হলো।
প্রকল্পটিতে আধুনিক বাসস্থানের পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির, সাইক্লোন শেল্টার ও বাজারসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনে স্থায়িত্ব ও মর্যাদা ফেরাতে এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, খুরুশকুল আবাসন প্রকল্প এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ উপহার দিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছ
মন্তব্য করুন