টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শুক্রবার সন্ধ্যাটা নেমে এসেছিল এক ভয়াবহ বিষাদ নিয়ে। ঘড়িতে তখন আনুমানিক সাড়ে সাতটা। গোহালিয়াবাড়ি-সল্লা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশের রেললাইন পার হচ্ছিলেন একই পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য। ঠিক সেই মুহূর্তেই দ্রুতবেগে ধেয়ে আসা একটি ট্রেন কেড়ে নেয় নারী ও শিশুসহ পরিবারের পাঁচজন সদস্যের প্রাণ। মুহূর্তের অসতর্কতায় একটি সাজানো পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়, আর শান্ত এলাকাটি পরিণত হয় এক বিভীষিকাময় প্রান্তরে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষজন স্তম্ভিত হয়ে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। যারা চোখের সামনে এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখেছেন, তাদের চোখেমুখে ছিল আতঙ্ক আর গভীর শোক। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইন-শৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি সেবা দানকারী সংস্থাগুলো। তারা মরদেহগুলো উদ্ধার করে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করে। সন্ধ্যার স্তব্ধতা ভেঙে তখন চারদিকে কেবল স্বজন হারানোদের আহাজারি আর বাতাসের ভারী হয়ে ওঠা দীর্ঘশ্বাস।
নিহতদের পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি পুরো জেলাজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি রেললাইন পারাপারে নিরাপত্তার অভাব এবং মানুষের জীবনের ঝুঁকিকে আবারও বড় প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা কারও জানা নেই। এলাকার মানুষ ও প্রশাসনের মনোযোগ এখন নিহতদের শেষ বিদায়ে সহায় হওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে।
মন্তব্য করুন