দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 29, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইরানে এখন মারা যাওয়াও সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে

০ শেয়ার
ইরানে এখন মারা যাওয়াও সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ইরানে আকাশচুম্বী হয়েছে কবরের দাম। ১৫ হাজার ডলারে বিক্রি হচ্ছে একেকটি কবর। বাধ্য হয়ে স্বজনের কবর বিক্রি করছে মানুষ।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার তো বটেই, তীব্র অর্থনৈতিক ও মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কায় বর্তমান ইরানে এখন মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুবরণ বা চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়াও সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে।
  • বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে জমানো পুরো মজুরি দিয়েও মিলছে না একটি কবর।
  • জীবনযাত্রার চরম সংকটে পড়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিজেদের বা মৃত স্বজনদের জন্য তুলে রাখা কবরের প্লট বিক্রি করে দিচ্ছেন।

বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার তো বটেই, তীব্র অর্থনৈতিক ও মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কায় বর্তমান ইরানে এখন মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুবরণ বা চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়াও সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে জমানো পুরো মজুরি দিয়েও মিলছে না একটি কবর। জীবনযাত্রার চরম সংকটে পড়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিজেদের বা মৃত স্বজনদের জন্য তুলে রাখা কবরের প্লট বিক্রি করে দিচ্ছেন। আবার অনেকে বিনামূল্যে দাফনের আশায় শত শত মাইল দূরে মৃতদেহ নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে, যাকে বলা চলে এক অদ্ভুত ‘মৃতদেহের অভিবাসন’।

রাজধানী তেহরানের বিখ্যাত ‘বেহেশত-ই জোহরা’ কবরস্থানে বর্তমানে তিন স্তরের একটি প্রাইভেট কবরের দাম চাওয়া হচ্ছে ৩ হাজার কোটি রিয়াল, যা প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমান। অথচ ২০২৬ সালে সরকারের বেঁধে দেওয়া অফিসিয়াল মূল্য মাত্র ৩৪৭ কোটি রিয়াল বা ১ হাজার ৭৪০ ডলার। অর্থাৎ, খোলা বাজারে সরকারি হারের চেয়ে প্রায় সাড়ে আট গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে একেকটি কবর। অথচ ইরানের বর্তমান সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি মাত্র ১৬৬ কোটি রিয়াল (প্রায় ৮৩ ডলার)। ফলে একজন সাধারণ শ্রমিক ১৫ বছর ধরে এক টাকাও খরচ না করে জমানো পুরো টাকা দিয়েও একটি প্রাইভেট কবর কিনতে পারবেন না। শুধু তেহরান নয়, কেরমানশাহে কবরের দাম ৩ হাজার ৪০০ কোটি রিয়াল, কারাজ ও ইয়াজদে ১ হাজার কোটি রিয়াল এবং পবিত্র ইমাম রেজার মাজারে দাফনের খরচ ১৪ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।

কেবল কবরের জায়গাই নয়, দাফন ও শেষ বিদায়ের সামগ্রিক আয়োজনও সাধারণ মানুষের নাগালের বহু দূরে চলে গেছে। মৃতদেহ পরিবহন, গোসল, কাফন, অ্যাম্বুলেন্স, মসজিদ ভাড়া ও কুলখানির মতো সাধারণ আয়োজন করতেই তেহরানের সরকারি হিসাবে খরচ হয় ১২০ থেকে ১৮০ কোটি রিয়াল। অতিরিক্ত খরচের চাপে অনেক পরিবার এখন ৩য় বা ৭ম দিনের চিরাচরিত আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে। একদিকে আয়ের তীব্র পতন এবং অন্যদিকে সরকারি ও খোলা বাজারের বিশাল ব্যবধানকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে সক্রিয় দালাল চক্র। এক দশক আগের তুলনায় ইরানের সর্বনিম্ন মজুরি অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসায় অনেকের কাছে কবরের প্লট এখন শেষ ঠিকানার পরিবর্তে এক ধরনের আর্থিক সম্পদে পরিণত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাফনের খরচ মেটাতে না পেরে কিংবা জীবিত থাকার তাগিদে নিজের বা স্বজনের শেষ নিঃশ্বাসের জন্য রাখা জমি বিক্রি করে দেওয়ার মর্মান্তিক দৃশ্য সাধারণ ঘটনায় রূপ নিয়েছে।

ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর হুথিদের বড় হামলা প্রতিহত করার দাবি

2

‘নৌকা’ প্রতীক স্থগিত, একক প্রার্থীর আসনে যুক্ত ‘না’ ভোট

3

প্যাডেল রিকশা নিষিদ্ধ ও প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণে আইনি নোটিশ

4

ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে বিতর্কিত আর্জেন্টাইন রেফারি ফাকুন্দো তেলো

5

সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর: দেশে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা ও ৩ মাসের আবহাওয়া পূর্বাভাস

6

পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার জোরালো আহ্বান হিরোশিমার মেয়রের

7

নৌ ও বিমানবাহিনীর নির্বাচনি পর্ষদ ২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

8

দিল্লি বাস গ্যাংরেপ: নির্যাতিতার বয়ান ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের খবর

9

অপরিকল্পিত চাপ ও দুর্ভোগ নিয়েই ঢাকামুখী জনস্রোত

10

নারায়ণগঞ্জ আদালত রায় ৩১ মার্চ ২০২৬ | শিশু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ড