ইরান যুদ্ধের খরচ মেটানো এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করার লক্ষ্যে আরও ৮০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন)। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইতোমধ্যেই ক্যাপিটল হিলে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। যদিও হোয়াইট হাউসের মাধ্যমে কংগ্রেসে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব জমা পড়েনি, তবুও বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট। ট্রাম্প প্রশাসন পেন্টাগনের জন্য প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মূল বাজেট চেয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। এই বিশাল বাজেটের পাশাপাশি ৮০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত যুদ্ধকালীন অর্থায়নের প্রস্তাব অনেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে জনগণের করের অর্থ যুদ্ধের পেছনে ব্যয় না করার পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অবশ্য বিষয়টিকে কেবল যুদ্ধের খরচ হিসেবে দেখছেন না। তিনি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানকে ঠেকাতে এই ব্যয়কে যৌক্তিক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। অন্যদিকে, অনেক রিপাবলিকান সিনেটর একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করার কৌশলগত বিনিয়োগ বলে মনে করছেন। তবে ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মুরি সরাসরি এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন এবং করের টাকার সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুতে পেন্টাগনের প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ হিসাবে সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। এখনকার ৮০ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন প্রকৃত ব্যয় শেষ পর্যন্ত এই অংককেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, কংগ্রেস এই বিতর্কিত বাজেট প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত অনুমোদন করে কি না।
মন্তব্য করুন