মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সর্বাত্মক যুদ্ধের মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের টাইর অঞ্চলসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ড্রোন ও রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বিমান বাহিনী। তেল আবিবের দাবি, হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ অবকাঠামো এবং রকেট উৎক্ষেপণ যন্ত্রগুলো এই হামলায় সম্পূর্ণ ধংস করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের টাইর অঞ্চলে হিজবুল্লাহর অন্তত ছয়টি বড় সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই নিখুঁত বিমান হামলা চালানো হয়। ইসরাইলের দাবি, এই স্থাপনাগুলো থেকে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত ও সামরিক চৌকিগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও রকেট হামলার ছক আঁকা হয়েছিল।
আইডিএফ-এর প্রকাশিত তথ্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেবাননে চালানো এই অভিযানের মূল ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
টাইর অঞ্চলের অবকাঠামো: হিজবুল্লাহর ড্রোন (ইউএভি) নিয়ন্ত্রণ ও উড্ডয়নের জন্য ব্যবহৃত অন্তত ৬টি সুনির্দিষ্ট অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রভর্তি উৎক্ষেপণযন্ত্র ধ্বংস: দক্ষিণ লেবাননের অন্যান্য গ্রামীণ এলাকায় ইসরাইল সীমান্ত লক্ষ্য করে হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রভর্তি একাধিক রকেট লঞ্চার বা উৎক্ষেপণযন্ত্র লক্ষ্যবস্তু করে ধ্বংস করা হয়েছে।
আকাশচিত্র প্রকাশ: নিজেদের দাবির সমর্থনে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বেশ কিছু অস্পষ্ট ও দূরবর্তী আকাশচিত্র (এরিয়াল ফুটেজ) প্রকাশ করেছে, যেখানে লেবাননের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা ও আবাসিক স্থাপনার ভেতর লুকিয়ে রাখা সামরিক ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণের দৃশ্য দেখা যায়।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এই বড় দাবির বিষয়ে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। লেবাননের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বিমান হামলার সত্যতা নিশ্চিত করলেও এই হামলায় হিজবুল্লাহর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা কোনো যোদ্ধা বা বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর ড্রোন ও রকেট ঘাঁটিতে ইসরাইলের এই আগ্রাসন চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে আরব দেশগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পরিধি বৃদ্ধির পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরাইল লেবানন সীমান্তে তাদের অভিযানের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন