বিশ্ব ফুটবলের মেগা মঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা রাজকীয়ভাবে ঘোষণা করে এক নতুন ইতিহাস রচনা করলেন স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচটিতে গোল করার মাধ্যমে তিনি এমন একটি অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, যা এতদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি লিওনেল মেসির দখলে ছিল [cite: ২০২৬ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোল করে তিনি স্পর্শ করেছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা এতদিন লিওনেল মেসির নামে ছিল।]। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন [cite: যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় স্পেন।]। ম্যাচের প্রথমার্ধেই সতীর্থের দেওয়া একটি নিখুঁত ও চমৎকার পাস থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়ান ইয়ামাল। তাঁর এই চোখ ধাঁধানো গোলের ওপর ভর করে ম্যাচে লিড নেওয়ার পর পুরো লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রাখে স্পেন এবং শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
বিশ্বকাপের মহাজাগতিক মঞ্চে এটিই ছিল স্প্যানিশ তরুণ লামিন ইয়ামালের ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। ম্যাচের দিন গোল করার সময় ইয়ামালের অফিসিয়াল বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ৩৪৩ দিন। আর এই গোলটির মাধ্যমেই তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করার ক্ষেত্রে লিওনেল মেসির চেয়েও কম বয়সি খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নিজের নাম লিখিয়েছেন।
আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি আজ থেকে ২০ বছর আগে, অর্থাৎ ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে ম্যাচটিতে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি করেছিলেন। সেই গোলটি করার সময় মেসির বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৫৭ দিন। সেই পরিসংখ্যানের খতিয়ান অনুযায়ী, স্পেনের লামিন ইয়ামাল আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মেসির চেয়ে ঠিক ১৪ দিন কম বয়সে এই অনন্য বিশ্বকীর্তি বা কৃতিত্ব অর্জন করলেন।
লিওনেল মেসির এই দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি লামিন ইয়ামাল নিজের করে নিলেও, বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার সর্বকালীন রেকর্ডটি কিন্তু এখনও ব্রাজিলের কালো মানিক ও ফুটবল সম্রাট পেলের দখলেই রয়ে গেছে [cite: তবে বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড এখনও ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের দখলে রয়েছে।]। প্রয়াত কিংবদন্তি পেলে ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর ২৯৩ দিন বয়সে গোল করে এই চিরস্মরণীয় ও অনন্য কীর্তিটি গড়েছিলেন, যা আজ পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি।
খুব অল্প বয়সেই বার্সেলোনার মতো ক্লাব ও স্পেনের আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অবিশ্বাস্য প্রতিভার নিখুঁত ছাপ রাখা লামিন ইয়ামাল এবার সরাসরি বিশ্বকাপের মূল মঞ্চেও ইতিহাসের একটি সোনালী অংশ হয়ে গেলেন। ফুটবল বিশ্বমঞ্চে তাঁর এই চোখধাঁধানো সাফল্য ও রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বর্তমান ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে। একই সাথে ফুটবল বিশ্লেষক ও বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তদের মনে ভবিষ্যতে এই তরুণ তুর্কির কাছ থেকে আরও অনেক বড় বড় রেকর্ড ও ঐতিহাসিক কীর্তি দেখার প্রত্যাশাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন