ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপে এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন মাত্রা। উত্তর আমেরিকায় চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই নানা নতুনত্ব দিয়ে বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তবে এবারের চমকটি ইতিহাসের পাতায় আলাদা জায়গা করে নিতে যাচ্ছে। ফিফা প্রথমবারের মতো ঘোষণা করেছে যে, এবারের বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী দলকে ট্রফি ও স্বর্ণপদকের পাশাপাশি দেওয়া হবে বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ বা আংটি। উত্তর আমেরিকার ক্রীড়াঙ্গনে সুপার বোল বা এনএফএল ফাইনাল বিজয়ী দলের সদস্যদের আংটি উপহার দেওয়ার যে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে, সেই সংস্কৃতিকেই এবার প্রথমবারের মতো ফিফার কোনো বড় টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
আসন্ন ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেনের মধ্যকার এই শিরোপার লড়াইটি কেবল ট্রফি জয়ের জন্যই নয়, বরং ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়নশিপ রিংটি নিজের আঙুলে তুলে নেওয়ার জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বিশ্বকাপের স্মারক হিসেবে মোট ২ হাজার ২৬টি চ্যাম্পিয়নশিপ রিং তৈরি করা হবে। এর মধ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৩০টি রিং, যা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি করা হবে।
বিশ্বজয়ী দলের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত প্রতিটি আংটি হবে স্বকীয় এবং স্বতন্ত্র নম্বরযুক্ত। এগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আঙুলের মাপ অনুযায়ী বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হবে এবং প্রতিটি আংটির সঙ্গে দেওয়া হবে একটি আনুষ্ঠানিক সত্যায়নপত্র। আংটির নকশায় এক পাশে থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফির আদল এবং অন্য পাশে ফুটে উঠবে বিজয়ী দলের পরিচয় ও তাদের এই অনন্য অর্জনের স্মারক। চ্যাম্পিয়ন দলের বাইরে বাকি ১ হাজার ৯৯৬টি আংটি বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী সমর্থকদের জন্য বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। ফাইনাল ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জয়ী দলের অধিনায়ক এবং প্রধান কোচের হাতে প্রতীকী হিসেবে আংটিগুলো তুলে দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত মাপ অনুযায়ী চূড়ান্ত আংটিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। ফিফার এই নতুন উদ্যোগটি ফুটবল ভক্তদের মাঝে দারুণ উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং এই রিংগুলো ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফুটবল বিশ্বকাপের এই নতুন সংস্কৃতির সাথে আপনি কি পরিচিত ছিলেন, নাকি এটি আপনার কাছে নতুন কোনো চমক হিসেবে এসেছে?
মন্তব্য করুন