যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও বাংলাদেশের ওপর তা যুক্ত হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দেশের জনস্বার্থে ব্রিকসসহ যেকোনো বহুপাক্ষিক ফোরামে সরকারের যোগদানের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে ডা. জাহেদ বলেন, পদে থাকা কালীন সময়ের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করা যায় না। তবে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হওয়ার আগের কিংবা পরের কোনো অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে সেক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আগের সরকারের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই মূলত আজকের এই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। অলিগার্ক বা নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাভোগীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য গ্যাস উত্তোলনে সঠিক ভূমিকা রাখা হয়নি। তাই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনো শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে উপদেষ্টা আরও জানান, সে সময় পুলিশ আন্দোলন দমাতে মারণাস্ত্র ৫৬ এসকেএস রাইফেল ও ৭.৬২ বোরের গুলি ব্যবহার করেছিল। এ ছাড়াও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের অনিয়ম ও কারচুপির বিচার না করা হলে তা দেশবাসীর প্রতি চরম অবিচার হবে।
বহুল আলোচিত শাপলা চত্বরের ঘটনার সঠিক বিচারের আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, যেই আইন ভঙ্গ করে থাকুক না কেন, ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে তার বিচার সুনিশ্চিত করা হবে এবং সরকার এই ঘটনাকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
মন্তব্য করুন