আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় প্লাতো রাজ্যের একটি গ্রামে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের নৃশংস হামলায় অন্তত ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সহিংসতাপ্রবণ এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। গভীর রাতে ঘুমন্ত সাধারণ মানুষের ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্লাতো রাজ্যের মাঙ্গু স্থানীয় সরকারের কোমবুন জেলার বিন-পের এলাকায় মধ্যরাতের দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হানা দেয়। হামলাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং তা মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত অব্যাহত রাখে। আকস্মিক এই হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হন। এছাড়া হামলায় ৩৮টি বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের কৃষিজমি, মজুত করা খাদ্যশস্য ও মূল্যবান সামগ্রী সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্লাতো পুলিশ কমান্ডের মুখপাত্র আলফ্রেড আলাবো জানিয়েছেন যে, পুলিশ কমিশনার ফানিয়ান আয়োদেজি ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাঙ্গু ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য খাবার, চিকিৎসাসহ জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্লাতো রাজ্যের গভর্নর কালেব মুতফওয়াং। তিনি অবিলম্বে বিন-পের ও এর আশেপাশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা টহল আরও জোরদার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার এবং যেকোনো ধরনের প্ররোচনা বা প্রতিশোধমূলক সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন গভর্নর। উল্লেখ্য, কৃষিজীবী সম্প্রদায় এবং পশুপালকদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভূমির অধিকার ও সম্পদ কেন্দ্রিক বিরোধের জেরে এই অঞ্চলে প্রায়ই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটে থাকে, যা বর্তমানে নাইজেরিয়া সরকারের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন