ভারতের অযোধ্যায় নবনির্মিত রাম মন্দিরে ভক্তদের দান করা অর্থের বড় একটি অংশ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। শনিবার কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই অনিয়মকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
মন্দির পরিচালনাকারী ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর অনুদান নিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় উত্তর প্রদেশ সরকার ইতোমধ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অভিযানে এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তার বক্তব্যে বলেন, কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস এবং সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকায় তৈরি এই মন্দিরের অর্থ নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। যারা এই অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
উত্তর প্রদেশ প্রশাসন জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ব্যক্তিগতভাবে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতি ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই তদন্ত প্রক্রিয়া কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সূত্র: ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিবেদন।
ভারতের অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভক্তদের দান করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ উল্লেখ করে এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রতিক্রিয়া শনিবার নিজের নির্বাচনি এলাকায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, রাম মন্দিরের জন্য অনুদান দেওয়া অর্থ শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়; এটি কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস এবং সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের প্রতিফলন। তিনি বলেন, অনেক দরিদ্র মানুষ ও নারীরা তাদের সম্বল থেকে এই অর্থ দান করেছেন। তাই এই অনিয়ম কেবল একটি আর্থিক অপরাধ নয়, এটি জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, শুধু অভিযুক্তদের শাস্তি দিলেই হবে না, বরং এই অর্থ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের অনুরোধে উত্তর প্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে আটজনকে গ্রেফতার করেছে এবং আদালত তাদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক উত্তাপ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিরোধী নেতারা বলছেন, রাম মন্দির যেহেতু কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতীক, তাই এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। একদিকে প্রশাসনিক তৎপরতা এবং অন্যদিকে বিরোধী দলের কঠোর অবস্থান সব মিলিয়ে রাম মন্দিরের দান নিয়ে এই ঘটনা ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন