ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া স্বজনদের উদ্ধারের আশায় প্রহর গুনছেন আন্দ্রেইনা ভ্যালেরিও। মাত্র দুই বছরের শিশুপুত্র সান্তিয়াগোসহ পরিবারের সদস্যদের ফিরে পাওয়ার আকুতিতে ভেঙে পড়েছেন এই মা। গত বুধবারের ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে তাদের ঘরবাড়ি।
লা গুয়াইরা অঞ্চলের ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে আন্দ্রেইনা জানান, ভূমিকম্পের সময় তার ছেলে সান্তিয়াগো তার বাবার সঙ্গে দাদা-দাদির বাসায় ছিল। ভবনটি ধসে পড়ার খবর শুনে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তার জীবনসঙ্গী, শ্বশুর-শাশুড়ি, দাদা-দাদি এবং ননদসহ পরিবারের প্রায় সবাই এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। আন্দ্রেইনা এবং তার ভাসুর স্যামুয়েল মেনদোজা জানান, ওই ভবনেই নয় বছরের লুকাস এবং তিন বছরের আরানজা নামের আরও দুটি শিশু আটকা পড়ে আছে।
উদ্ধারকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মাঝে মাঝে কান্নার শব্দ এবং 'বাঁচান' এমন আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। যদিও স্পেন ও এল সালভাদর থেকে আসা উদ্ধারকারী দল দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ভারী যন্ত্রপাতির অভাব এবং ধ্বংসযজ্ঞের বিশালতার কারণে এখনো কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সরকারি হিসাবে, ১২৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪৩০ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ৩ হাজার ২৩৮ জন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। লা গুয়াইরা অঞ্চলে ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারিভাবে ১৪ হাজার পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হলেও দীর্ঘদিনের নানা সংকটে জর্জরিত ভেনেজুয়েলার জন্য এই উদ্ধারকাজ এখন বড় এক চ্যালেঞ্জ।
নিখোঁজদের স্বজনদের কান্নায় লা গুয়াইরার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। প্রিয়জনের সামান্য সাড়াশব্দের আশায় ধ্বংসস্তূপের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন অনেকে। তবুও আন্দ্রেইনা ভ্যালেরিওসহ হাজারো মানুষ বিশ্বাস করতে চান ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাদের প্রিয়জনরা ফিরে আসবে।
মন্তব্য করুন