ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সম্পত্তি দখলের কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক বিধবা নারীকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম কালাম মাঝি, যিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওসমানগঞ্জ ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। এই বর্বরোচিত হামলায় ওই বিধবা নারীর বাম হাত এবং বুকের একটি হাড় ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী রহিমা বেগমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি তার সন্তানদের নিয়ে স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটিতেই বসবাস করে আসছেন। কালাম মাঝি দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তি দখলের জন্য রহিমা বেগমকে নানাভাবে হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার সকালে, যখন রহিমা বেগম তার নিজ গাছের নারিকেল পাড়তে যান। সেই সময় কালাম মাঝি তার ছেলে জাকির ও জিহাদসহ সহযোগীদের নিয়ে অতর্কিতভাবে রহিমা বেগমের ওপর চড়াও হন। তাকে লোহার রড বা লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
ঘটনার তিন দিন পর শনিবার রাতে ভুক্তভোগীর ছেলে আল আমিন বাদী হয়ে চরফ্যাশন থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে প্রধান অভিযুক্ত কালাম মাঝিসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছিলেন।
চরফ্যাশন থানার ওসি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় এবং পরিবার তাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মামলা করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় ওই এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সবাই অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন