পবিত্র হজের ধর্মীয় যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা অত্যন্ত সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৪৩৫ জন বাংলাদেশি হাজি নিরাপদে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইটি হেল্পডেস্ক থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আজ রোববার নির্ধারিত নয়টি বিশেষ ফিরতি ফ্লাইটে করে আরও ৩ হাজার ৬৪৬ জন হাজির দেশে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আজকের এই ফ্লাইটগুলো দেশে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে এ বছর বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মোট হজযাত্রীদের অর্ধেকেরও বেশি অংশ দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। বাকি হাজিরাও সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা থেকে পর্যায়ক্রমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্সের পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট সিডিউল অনুসারে দেশে ফিরবেন এবং আগামী ১ জুলাই হজের এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পবিত্র ভূমি থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন অনেক হাজি। তারা এ সময় সাংবাদিকদের কাছে তাদের হজের চমৎকার অনুভূতি, আবেগ ও জীবনের সেরা অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হাজিদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, এবার সৌদি সরকারের সার্বিক আধুনিক হজ ব্যবস্থাপনা ও হাজিদের দেওয়া বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তারা উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় সৌদি কতৃপক্ষের সুশৃঙ্খল যাতায়াত ব্যবস্থা ও উন্নত চিকিৎসাসেবা হাজিদের মক্কায় অবস্থানকালীন দিনগুলোকে অনেক বেশি সহজ এবং আরামদায়ক করে তুলেছিল।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যক্ষ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা এবার পবিত্র হজ পালন করতে গিয়েছিলেন, তারাও হজ শেষে দেশে ফিরে সরকারের সার্বিক সুন্দর দেখভালের প্রতি গভীর সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনার হাজিরা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে পরবর্তী বছরগুলোতে কোনো ধরনের দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি সরকারি মাধ্যমের ওপর আস্থা রেখে হজ পালনের আন্তরিক পরামর্শ দিয়েছেন। তারা জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় আবাসন, খাবার এবং গাইডদের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা এতটাই চমৎকার ছিল যে কোনো হাজিকেই মক্কা-মদিনায় গিয়ে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি বা ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়নি।
অন্যদিকে, হজের সার্বিক চিকিৎসা ও হজযাত্রীদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, গতকাল শনিবার পর্যন্ত মক্কা ও মদিনায় স্থাপিত বাংলাদেশ হজ মিশনের নিজস্ব মেডিকেল সেন্টার থেকে মোট ৫৮ হাজার ৪৯টি বিশেষ চিকিৎসাপত্র বা প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, শারীরিক জটিলতার কারণে সৌদি আরবের স্থানীয় আধুনিক হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়ে বিশেষ চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৯৮ জন বাংলাদেশি। এ বছর পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে এসে বার্ধক্য ও বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে এ পর্যন্ত ৪৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন, যাদের নিয়ম অনুযায়ী মক্কা ও মদিনার পবিত্র মাটিতেই দাফন করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানেও সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ২২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বাংলাদেশ হজ মিশন তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে।
মন্তব্য করুন