দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কঠোর পালটা জবাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের হরমুজ প্রণালির ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও ঘাঁটিতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, চাবাহার ও সিরিকসহ বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন থাকা হ্যাঙ্গার এবং ‘ক্যাম্প তিতিন’-এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাক লক্ষ্য করে ভারি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় বেশ কিছু ড্রোন ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হওয়া এবং মার্কিন কারিগরি কর্মী ও সেনা নিহত হওয়ার দাবি করেছে তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের খবর নাকচ করে দিয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে অন্তত ১০টি মাঝপথেই ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী তাদের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের তথ্য নিশ্চিত করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটিতে অবস্থিত রাডার সিস্টেম এবং মার্কিন সেনাদের সমাবেশস্থল লক্ষ্য করেও বড় আকারের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনাচৌকিগুলোতেও আঘাত হানা হয়েছে। হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় শিশুসহ চারজন নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে কঠোর আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিলেন, এবং বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান পালটা জবাব দিলে আরও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
মন্তব্য করুন