হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা মার্কিন উপস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছে এবং ১৯৮৭ সালের হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে নিরাপত্তা দিতে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনার পর বিশ্ব রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র আলিমোহাম্মদ নাইনি সাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাহারা দিতে নৌবাহিনী পাঠায়, তবে ইরান সেই উপস্থিতির জন্যই ‘অপেক্ষা’ করছে।
নাইনি এক বিবৃতিতে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ১৯৮৭ সালে মার্কিন সুপারট্যাংকার 'ব্রিজেটন'-এ হামলার ঘটনা এবং সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর পরিণতি মনে রাখা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই মন্তব্য সরাসরি একটি যুদ্ধের উসকানি এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করার একটি কৌশল।
এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথ সচল রাখতে প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েন করা হবে। ইরানের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে হরমুজ প্রণালি এখন এক বিপজ্জনক জলপথে পরিণত হয়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। ইরানের এই প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক নতুন এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেল।