ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআর কাদাপ্পা জেলায় সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু এবং নতুন করে আটজনের সংক্রমণের ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ রাজ্যজুড়ে নজরদারি জোরদার করেছে। এই ঘটনার পর প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশাও সীমান্তবর্তী দক্ষিণ জেলাগুলোতে কড়া স্ক্রিনিং ও নজরদারি শুরু করেছে। একই সময়ে কণ্ঠশিল্পী কুমার শানুর ছেলে জান কুমার শানুর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবরও আলোচনায় এসেছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জনতাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, এই পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, কাদাপ্পায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তারা আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা যেমন ডায়াবেটিস ও লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণ ফ্লু ভাইরাসের প্রভাবেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। এছাড়া ভারতের অধিকাংশ মানুষের দেহে দীর্ঘদিনের সংক্রমণ এবং টিকাদানের ফলে এক ধরনের শক্তিশালী ‘হাইব্রিড ইমিউনিটি’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেছে, যা বড় ধরনের মহামারির ঝুঁকি ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
আস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগের প্রধান ড. শিবরাজ এ এল উল্লেখ করেছেন যে, কোভিড-১৯ এখন এন্ডেমিক বা স্থানীয় রোগে পরিণত হয়েছে। এর অর্থ হলো মাঝে মাঝে ছোটখাটো প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে, যা স্বাভাবিক। বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জিনোমিক পরীক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি। সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
মন্তব্য করুন