ফুটবল মাঠে গোলদাতারা সাধারণত পাদপ্রদীপের আলোয় থাকেন, কিন্তু দলের সাফল্যের নেপথ্যে এমন কিছু যোদ্ধা থাকেন যারা নীরবে নিজের কাজটুকু করে যান। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দলের তেমনই এক অবিচল আস্থার নাম ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। রক্ষণভাগে তিনি যেমন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তেমনি দলের প্রয়োজনে আক্রমণভাগে উঠে এসে গোল করতেও দ্বিধা করেন না।
আর্জেন্টিনার কর্দোবায় ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া রোমেরোর জীবনযাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। মধ্যবিত্ত পরিবারের সীমাবদ্ধতা আর অভাবের মধ্যে বড় হওয়া রোমেরোর ছোটবেলায় নতুন বুট কেনার সামর্থ্যও অনেক সময় ছিল না। কিন্তু বাবা-মায়ের কঠোর পরিশ্রম আর নিজের স্বপ্ন দেখার অদম্য সাহসে তিনি এগিয়ে গেছেন। স্থানীয় বেলগ্রানো একাডেমি থেকে শুরু করে ইতালির জেনোয়া, ইউভেন্টাস এবং আতালান্তার মতো ইউরোপীয় ক্লাবে নিজের জাত চিনিয়ে তিনি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। ইতালিয়ান লিগে সেরা ডিফেন্ডারের খেতাব জেতা রোমেরো এখন টটেনহ্যাম হটস্পারের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা।
২০২১ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকেই তিনি কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। বিশেষ করে চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এ মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে তার অবদান ফুটবলপ্রেমীরা দীর্ঘদিন মনে রাখবে। ম্যাচে আর্জেন্টিনা যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল, তখন ৭৯ মিনিটে রোমেরোর হেডই ম্যাচে প্রাণ ফিরিয়ে আনে। সেই গোলটির পর থেকেই যেন জেগে ওঠে আর্জেন্টিনা, আর শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা।
মাঠের ভেতরে রোমেরো একজন নির্ভীক যোদ্ধা হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও পরিবারপ্রেমী। তার কাছে দেশের জার্সি গায়ে জড়ানো যেকোনো ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে বড়। তিনি প্রায়ই বলেন, প্রয়োজনে দলের জন্য নিজের শরীর বিলিয়ে দিয়ে বল আটকানোর মানসিকতাই তাকে এগিয়ে রাখে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে তিনি শুধু ট্যাকল বা বল ক্লিয়ারেন্সেই দক্ষ নন, বরং চাপের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এক অসাধারণ নেতা। ফুটবলের গোলগল্পের বাইরেও রক্ষণভাগের এই নীরব যোদ্ধার গল্পগুলোই মূলত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সাফল্যের আসল ভিত্তি।
মন্তব্য করুন