জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া অঞ্চলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’। এর প্রভাবে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রায় ১৪ হাজার ভবন। শনিবার (৮ আগস্ট) জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় ঘূর্ণিঝড়টি ওকিনাওয়ার কুমে দ্বীপ থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছিল এবং এটি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। টাইফুনের প্রভাবে প্রবল বাতাসের কারণে ছিটকে পড়ে আহত তিন বৃদ্ধসহ মোট পাঁচজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এএনএ ও জাপান এয়ারলাইন্স ওকিনাওয়া অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো বাতিল করেছে। টাইফুনটির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার থেকে দমকা হাওয়ায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাপান অতিক্রম করে টাইফুনটি রোববার শেষ ভাগ থেকে সোমবার সকালের মধ্যে চীনের পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র। বিশেষ করে ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশের মাঝামাঝি এলাকায় এটি আছড়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে পূর্ব চীনে আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে ঝেজিয়াংয়ের পূর্বাঞ্চলে ৬০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। সম্ভাব্য এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ঝেজিয়াংয়ের উপকূলীয় এলাকায় সর্বোচ্চ টাইফুন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার পাশাপাশি ১৬২টি রুটে যাত্রীবাহী ফেরি চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শনিবার রাত থেকে কার্যক্রম বন্ধ ও রোববারের সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে এবং সাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দর থেকেও নৌযানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে টাইফুনের কারণে তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় তাদের ৬৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বেইজিং তাইওয়ান প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে চীনের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মানার নির্দেশ দেওয়ায় তাইপে এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশাধিকার সীমিত করার বেইজিংয়ের কোনো আইনি অধিকার নেই। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো অঞ্চলে টাইফুন ডলফিনের কারণে বড় ধরনের জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন