বোকায় এলেই যেন নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যান মিগুয়েল মেরেতিয়েল। কোপা সুদআমেরিকানার কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে সাও পাওলোর মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে ১-০ গোলে হারিয়ে যখন মাঠ ছাড়ছিল বোকা জুনিয়র্স, তখন খবরের শিরোনামে অবশ্য একটাই নাম ‘লা বেস্তিয়া’ খ্যাত এই উরুগুয়ান ফরোয়ার্ড। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দারুণ এক আক্রমণ থেকে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে দলকে মহামূল্যবান জয় এনে দিয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টে এটি তার তৃতীয় গোল হলেও, সব মিলিয়ে বোকার জার্সি গায়ে এটি তার ৬১তম গোল। আর এই জয়ে ল্যাটিন আমেরিকার ফুটবলে নিজের নামের পাশে আরও একটি স্মরণীয় রাত যোগ করলেন তিনি।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বোকার আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা হয়ে আছেন এই স্ট্রাইকার। দলে কত নামী-দামি তারকা এলো আর গেলো, কিন্তু মেরেতিয়েল ঠিকই নিজের জায়গা পাকা করে নিলেন দলের দুঃসময়ে ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হওয়ার সুবাদে। সাও পাওলোর বিপক্ষে ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ম্যাচের তখন দ্বিতীয় হাফের বয়স সবেমাত্র ছয় মিনিট, বাঁ প্রান্ত থেকে লাউতারো ব্লানকো দারুণ এক রানিং ক্রস বাড়ালেন ডি-বক্সে। প্রথমে গোলরক্ষক রাফায়েল শটটি রুখে দিলেও ফিরতি বল নিখুঁত নিশানায় জালে পাঠিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন মেরেতিয়েল। ন্যূনতম এই ব্যবধানের জয় নিয়ে এবার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্রাজিল সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারছে দল।
অবশ্য চলতি মৌসুমের শুরুর দিকটা এতটাও সহজ ছিল না তার জন্য। কোচ রোডলফো আরুবারেনা ট্যাকটিক্যাল কারণে তাকে একদম নতুন পজিশনে, অর্থাৎ পুরোপুরি সেন্টার ফরোয়ার্ড বা ৯ নম্বর পজিশনে খেলাতে শুরু করেছিলেন। স্বভাবতই একটু ভিন্ন ভূমিকার কারণে মাঝপথে টানা ছয় ম্যাচ জালের দেখা পাননি তিনি। তবে কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। প্লাতেন্সে গোল খরা কাটানোর পর রিকোয়েতার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক গোল করে ফর্মে ফেরেন তিনি, আর এবার মহাদেশীয় লড়াইয়ে সাও পাওলোর দুর্গ ভেঙে প্রমাণ করলেন যে দলের যখনই বড় কোনো অর্জনের প্রয়োজন হয়, তখনই তিনি সবার আগে হাজির থাকেন।
মন্তব্য করুন