দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নানা সমালোচনার মুখোমুখি হলেও তা কাজের গতি কমাতে পারবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি কেবল চারপাশের সমালোচনা শুনে আসছেন, তবে এসব সমালোচনা তাকে কোথাও আটকে রাখতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। শনিবার সন্ধ্যায় সাভারের বিরুলিয়ার খাগান এলাকায় অবস্থিত ব্র্যাক সিডিএমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে উপাচার্যদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সংলাপ’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ১৯৮১ সালের ১৭ জানুয়ারি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে হিজবুল বাহার নৌবিহারে শিক্ষা সফরের স্মৃতিকথাচারণ করে শিক্ষামন্ত্রী জানান যে, সে আমলেও বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সময়ে জিয়াউর রহমান তাকে শিখিয়েছিলেন যে, সমালোচনার মুখে কখনো থেমে থাকা চলে না। শিক্ষামন্ত্রীর মতে, সেই শিক্ষা থেকেই তিনিও নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমালোচনাই মাথায় রাখছেন না। এ সময় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে তিনি শিক্ষক সমাজকে আরও বেশি মাত্রায় গবেষণামূলক কার্যক্রমে মনোযোগী হওয়ার জোরালো আহ্বান জানান।
অতীতের বিভিন্ন সময়ে অপরিকল্পিতভাবে অধিক হারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কঠোর সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন যে, শুধু সংখ্যায় বেশি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠলেই চলবে না, বরং সেখানে প্রকৃত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। আর এই সুনির্দিষ্ট কারণেই সরকার নতুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মান বাড়াতে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি উপাচার্যদের বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেন। ইউজিসির উচ্চশিক্ষার উদ্দীপনা ও রূপান্তর প্রকল্পের অধীনে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ জনেরও বেশি উপাচার্য ছাড়াও শীর্ষ নীতিনির্ধারক, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিভিন্ন প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এ সময় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদসহ কমিশনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন