সরকারি চাকরির ১১ থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১১ থেকে ২০তম গ্রেড) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, প্রশাসনে দক্ষ ও যোগ্য জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার এই পরিবর্তন এনেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বা বৈষম্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় অনুমোদিত ‘পরীক্ষার মানবণ্টন বিশেষ বিধিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান অর্থাৎ ৫০-৫০ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি বা জালিয়াতি রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক সচিব ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, লিখিত ও ভাইভায় সমান নম্বর (৫০-৫০) থাকার ফলে মেধার মূল্যায়ন ব্যাহত হবে। এতদিন সাধারণত লিখিত পরীক্ষা ৭০-৮০ এবং ভাইভা ২০-২৫ নম্বরের হয়ে থাকে, যেখানে লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা মেধাবী প্রার্থীরা এগিয়ে থাকেন। কিন্তু নতুন নিয়মে লিখিত পরীক্ষায় শুধু পাস করে ভাইভায় বেশি নম্বর দিয়ে পছন্দের বা দলীয় প্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নষ্ট করবে এবং দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন