বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরিচিত ও প্রবীণ মুখ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় তার নিজ এলাকা নরসিংদীজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার এই সুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনসহ পুরো জেলার দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিলের পাশাপাশি মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেছে।
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ অতীতেও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন এই দায়িত্বে তিনি আসীন হওয়ায় নরসিংদীসহ সমগ্র দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও বেশি গতিশীল হবে বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। পলাশ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল মনে করেন, ড. মঈন খানের মতো একজন সৎ, শিক্ষিত ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিত্বের হাতে দায়িত্ব অর্পিত হওয়ায় পলাশবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতারাও এই খবরে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলম মোল্লা আশা প্রকাশ করেন যে, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব হবে। এছাড়া নরসিংদী আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি সারোয়ার হোসেন মৃধা এবং পলাশ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান পাপনের মতো তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও নেতার এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি ড. মঈন খানের বর্ণাঢ্য শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবন রয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সক্রিয় রাজনীতিতে আসার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি তিনি অতীতে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী এবং বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর নতুন এই মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তি নরসিংদীর মানুষের মাঝে নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যাশার সঞ্চার করেছে।
মন্তব্য করুন