কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজ হওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধানের নিখোঁজ রহস্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে উদ্ধারের পর জিসান নিজেকে অপহৃত বলে দাবি করলেও কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে কেউ অপহরণ করেনি, বরং এক নারীর সাথে প্রতারণামূলক ঘটনার পর আইনি ঝামেলা ও বিয়ে এড়াতে তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছিলেন। এদিকে জিসান উদ্ধারের নাটকীয় খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতেই ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার মামলা দায়ের করেছেন।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে জিসান আহমেদ প্রধান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান কৌশলে ওষুধের মাধ্যমে তাঁর ভ্রূণ নষ্ট করেন। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য ক্রমাগত চাপ দিলে জিসান শুক্রবার (১২ জুন) বিয়ে করবেন বলে সম্মতি জানান। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনের আগের রাতে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার জিসান ওই নারীকে বিয়ে না করার অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে নিজেই আত্মগোপনে চলে যান এবং তাঁর চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করান। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের মাধ্যমে লাকসাম থেকে তাঁকে উদ্ধার করার পর থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। বর্তমানে ওই নারীর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় জিসান প্রধান ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে দাউদকান্দি থানা পুলিশ।
মন্তব্য করুন