কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২০ জুন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামের এক ব্যক্তি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ জুন ইউটিউব ও ফেসবুকে সংসদ সদস্যের পোশাক ও দাড়ি-টুপি নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে এবং তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের একাধিক নেতা মামলাকারী জালাল আহমেদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, জালাল আহমেদ যুবদল নেতা নন, বরং পূর্বে যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কুমিল্লা মহানগর সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন এই মামলাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তারা এটি আইনগতভাবে মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার তার অবস্থানের স্বপক্ষে জানিয়েছেন যে, তার নেতার সম্মানহানি হয়েছে বলেই তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ও অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেই মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
মুফতি ফয়জুল করিম ইসলামী আন্দোলনের একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হওয়ায় এই মামলাটি এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর এখন সবার নজর রয়েছে, কারণ মামলার বাদী ও বিবাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আইনগতভাবে এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন