আসন্ন নতুন জাতীয় পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ার পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতার হারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। সরকারি আবাসনের ওপর চাপ কমাতে এবং সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বেতন কমিশন ২০২৫-এর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে তা কিছুটা সংশোধন করেছে সচিব কমিটি। নতুন এই সুপারিশ অনুযায়ী, গ্রেড ও এলাকাভেদে বাড়িভাড়া ভাতার জন্য মোট চারটি নতুন ধাপ বা ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সচিব কমিটির সুপারিশকৃত নতুন কাঠামো অনুযায়ী গ্রেড ও এলাকভিত্তিক বাড়িভাড়া ভাতার হার নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ১৬তম থেকে ২০তম গ্রেড
ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকা: মূল বেতনের ৬০ শতাংশ।
অন্যান্য বড় শহর (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, কক্সবাজার ও সাভার): মূল বেতনের ৫০ শতাংশ।
দেশের অন্যান্য এলাকা: মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ।
২. ১০ম থেকে ১৫তম গ্রেড
ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকা: মূল বেতনের ৫০ শতাংশ।
অন্যান্য বড় শহর: মূল বেতনের ৪০ শতাংশ।
দেশের অন্যান্য এলাকা: মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ।
৩. ৫ম থেকে ৯ম গ্রেড
ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকা: মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ।
অন্যান্য বড় শহর: মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ।
দেশের অন্যান্য এলাকা: মূল বেতনের ৩০ শতাংশ।
৪. ১ম থেকে ৪র্থ গ্রেড ও তদূর্ধ্ব
ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকা: মূল বেতনের ৪০ শতাংশ।
অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার এলাকা: মূল বেতনের ৩০ শতাংশ।
দেশের বাকি এলাকা: মূল বেতনের ২৫ শতাংশ।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে পূর্বের মতো মোট ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। নতুন এই কাঠামোতে ১ম থেকে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন পে স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হলেও, বর্ধিত মূল বেতন তিন ধাপে সমন্বয় করা হবে এবং বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
মন্তব্য করুন