ডেভিড হ্যালবারস্ট্যামের কালজয়ী গ্রন্থ ‘দ্য বেস্ট অ্যান্ড দ্য ব্রাইটেস্ট’ বর্তমানে চলমান ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক ও সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বইটি মূলত তুলে ধরে কীভাবে অতি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্রপ্রধানরা যুদ্ধের ময়দানে আমেরিকান সেনাদের পাঠিয়ে একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমান সংঘাতের মাত্র কয়েকদিনেই (যা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে) এটি স্পষ্ট যে, সামরিক অভিযানের গতিপথ কতটা অনিশ্চিত হতে পারে। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরান পুরো অঞ্চলজুড়ে হোটেল ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি কুয়েত ভুলবশত তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যা যুদ্ধের বিশৃঙ্খল রূপকেই ফুটিয়ে তোলে।
এই সংকটের শুরু থেকেই মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন যে, এই সংঘাত অনেক বেশি জটিল ও বিপজ্জনক হবে। তবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত বন্দি করার সাফল্য ট্রাম্প প্রশাসনের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, ইরান আর ভেনেজুয়েলা এক নয়। যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী এই যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিকে এক দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
হ্যালবারস্ট্যামের সেই ঐতিহাসিক সতর্কবার্তা আজ যেন এক নির্মম বাস্তবতা হয়ে ধরা দিয়েছে সামরিক সংঘাতের গতিপথ আগে থেকে অনুমান করা কেবল একটি বোকামি নয়, বরং এটি একটি মারাত্মক কৌশলগত ভুল। যখন কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে একটি জটিল জনপদ বা আদর্শিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ায়, তখন তার পরিণতি হয় অনিয়ন্ত্রিত। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের এই আগ্নেয়গিরি সদৃশ পরিস্থিতি সেই ঐতিহাসিক ভুলেরই এক আধুনিক পুনরাবৃত্তি মাত্র।
মন্তব্য করুন