আজ থেকে ঠিক তিন দশক আগের এই দিনে ঢাকার ইস্কাটনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিরসবুজ চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর মরদেহ। এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দীর্ঘ ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই মৃত্যুর রহস্য আজও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও পিবিআই—রাষ্ট্রীয় তিনটি পৃথক তদন্ত সংস্থায় এটিকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও শুরু থেকেই এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে নায়কের পরিবার। পরিবারের একের পর এক নারাজি ও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের নির্দেশে মামলাটি নতুন মোড় নেওয়ায় এখন জট খোলার নতুন আশা দেখছেন স্বজনরা।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালতের আদেশে রমনা থানায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করে নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম। বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার রয়েছে সিআইডির হাতে। এর আগে সিআইডির আবেদনে গত মে মাসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিলেও বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা বর্তমানে আদালতে নথিভুক্ত রয়েছে। এদিকে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মামলার অন্যতম আসামি খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ২৭ আগস্ট তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তবে রিমান্ডের অনুমতি মিললেও তাকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মজিবুর রহমান। এছাড়া ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা না হওয়ায় আদালত আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন।
লন্ডন থেকে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, আসামিরা দেশে থাকা সত্ত্বেও এবং তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে সব রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে তারা আশা করছেন। মামলার বাদী আলমগীর কুমকুম মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যুর পর প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা হলেও ১৯৯৭ সালে এটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন সালমানের বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং ২০২০ সালে পিবিআই তাদের প্রতিবেদনে সালমান শাহকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচিত’ বা পারিবারিক কলহের জেরে আত্মঘাতী হওয়ার কথা বললেও পরিবার তা বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে। সবশেষ গত বছরের অক্টোবরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে পুনর্গ্রহণ করা হয়। সামীরা হক ও ডন ছাড়াও মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। দীর্ঘ তিন দশকের আইনি লড়াই শেষে নতুন এই তদন্তে সালমান শাহর মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটিত হবে কি না, এখন সেটিরই অপেক্ষায় রয়েছে পুরো পরিবার ও ভক্তরা।
মন্তব্য করুন