|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jun 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রাশিয়ায় মুসলিম নেতাদের গণগ্রেফতারের কারণ

শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে 'অবাধ্যতার' অভিযোগে অভিযুক্ত কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল। সংগৃহীত ছবি


সাম্প্রতিক সময়ে তথা ২০২৬ সালের মে মাস থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় এক চরম অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী (এফএসবি) একের পর এক মুসলিম আলেম ও প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতাদের গণগ্রেফতার শুরু করেছে। আপাতদৃষ্টিতে কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল, মর্দোভিয়ার মুফতি রয়াল আসেনভ কিংবা সারাতভের ডেপুটি মুফতি আল-খেইখ নিদাল আওয়াদুল্লাহদের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ গ্রহণ’ বা ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে অবাধ্যতা’র মতো সাধারণ অভিযোগ আনা হলেও, নেপথ্যের কারণটি আরও গভীর ও রাজনৈতিক। ক্রেমলিন-সমর্থিত সংবাদমাধ্যম এবং উগ্র-ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী চ্যানেলগুলোর প্রচারণায় স্পষ্ট যে, এদের অনেকের বিরুদ্ধে রাশিয়ার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সাথে যুক্ত থাকার পাশাপাশি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের হয়ে কাজ করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হচ্ছে। কট্টরপন্থী রুশ জাতীয়তাবাদীরা এই গ্রেফতারকে রাশিয়ায় ‘হালালাইজেশন’ বা ইসলামীকরণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় দমন অভিযানের সফল সূচনা হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছে।

এই গণগ্রেফতারের পেছনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘একক স্লাভিক ও অর্থোডক্স খ্রিস্টান’ ঐতিহ্যভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সুদূরপ্রসারী এজেন্ডা এবং ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব প্রধান ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে, রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমসের (ডিইউএম) প্রথম ডেপুটি দামির মুখেতদিনভকে তাঁর কার্যালয়ে ‘মঙ্গোল-তাতার যুগ’-এর ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনের দায়ে ১ লাখ ৫০ হাজার রুবল জরিমানা করার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র এখন ইতিহাসের নিজস্ব ব্যাখ্যার বাইরে অন্য কোনো জাতিগত বা ধর্মীয় বয়ান সহ্য করছে না। এছাড়া, আবাসিক ভবনে মুসলমানদের জামাতবদ্ধ নামাজ বা গণউপাসনা কার্যত নিষিদ্ধ করে পাস হতে যাওয়া একটি বিতর্কিত বিলের বিরুদ্ধে ডিইউএম প্রধান রাভিল গাইনুতদিন সরাসরি পুতিনের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানানোর পরপরই এই গ্রেফতারের গতি বহুগুণ বেড়ে যায়। রাশিয়ায় ২ কোটিরও বেশি মুসলমানের বসবাস হওয়া সত্ত্বেও নতুন মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে প্রশাসনের অনীহা এবং সন্দেহভাজন মুসলিম অভিবাসীদের ধরে সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধের সামরিক ক্যাম্পে পাঠানোর প্রবণতা ক্রেমলিনের দ্বিমুখী নীতিকেই স্পষ্ট করে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আনুগত্য সত্ত্বেও এই গণগ্রেফতারের ঢেউ রাশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকারকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অস্ত্র জমা দিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা পেলেন সালথাবাসী

1

ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লিফলেট তৈরি, গ্রেফতার ২

2

দৌলতদিয়া ঘাটে বাসের সলিল সমাধি: পদ্মার ৩০ ফুট নিচে তলিয়ে গেছ

3

দক্ষিণ আফ্রিকায় গণগুলিবর্ষণ, নিহত ১২

4

এআই-এর বিরুদ্ধে একজোট মার্কিনিরা: করপোরেট লোভ বনাম জননিরাপত্

5

বৈশাখের আগে উত্তপ্ত ইলিশের বাজার: মহিপুরে মণ ১ লাখ ৪০ হাজার

6

ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

7

রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করলেন কোয়েল মল্লিক

8

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়া

9

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বুধবার সংসদে সরকারি দলের সভা

10

মারধরের অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুললেন তানজিন তিশা

11

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু, ১১ জুন নতুন

12

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ২০২৬: কেন যুদ্ধের বিস্তার তেহরানের পক্ষেই

13

দেশে হামের ভয়াবহ রূপ: ২৪ ঘণ্টায় ১২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩

14

দ্য ড্রামা মুভি ২০২৬ | রবার্ট প্যাটিনসন ও জেনডায়া মুভি আপডে

15

সংসদে খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে

16

বিশ্ববাজারে তেলের দামে মহাবিপর্যয়: এক সপ্তাহে বাড়ল ৩০ শতাংশ,

17

শাওনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তাজুল ইসলামের

18

আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ

19

জয়নুল আবদীন ফারুক সংসদ বক্তব্য ২০২৬ | জুলাই-আগস্ট চেতনা ও ব

20