স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মীর শাহে আলম। সম্প্রতি তার ও তার পরিবারের মালিকানাধীন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি খাতের কোটি কোটি টাকার কাজ পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিসিক পরিচালক থাকা এবং পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার পরিবারের কোম্পানিগুলো অন্তত ৭১ কোটি টাকার সরকারি কাজ বাগিয়ে নিয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম এবং তার ছেলে মীর শাকরুল আলমের মালিকানাধীন ‘রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস’ এবং ‘মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামক প্রতিষ্ঠানগুলো বিসিক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রায় ১২টি বড় ধরনের কাজের চুক্তি লাভ করে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শাহে আলম বিসিকের পরিচালক থাকাকালীন প্রায় ৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার ছয়টি চুক্তি এবং প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে আরও ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার ছয়টি চুক্তি দেওয়া হয়। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এপ্রিলে রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলসকে পটাশিয়াম আয়োডেট কেনার জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকার একটি কাজ দেওয়া হয়, যা তার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র দুই মাস পরের ঘটনা।
সংবিধানের ১৪৭ (৩) অনুচ্ছেদ এবং সরকারি নীতি অনুযায়ী কোনো মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পারিবারিক কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি কাজের এই ধরনের সম্পৃক্ততা স্পষ্টতই ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের মধ্যে পড়ে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা। সুশাসনের জন্য কাজ করা বিশিষ্টজনদের মতে, এ দেশের সাধারণ মানুষ সরকারি খাতের দরপত্রে স্বজনপ্রীতি দেখতে চায় না, তাই এই ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। এছাড়া এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ এবং পুলিশ কর্মকর্তা বদলিতেও প্রতিমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তারের নানা গুঞ্জন সচিবালয়ের অন্দরমহলে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।
অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি দাবি করেছেন, এই কাজগুলো পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়নি। তার দাবি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই প্রক্রিয়াগুলো শুরু হয়েছিল এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়াতে পরবর্তী সময়ে তিনি তার ছেলের প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করেছেন। তবে হলফনামার মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তর করলেই আইনি বা নৈতিক দায়মুক্তি মেলে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সরকার আরও বেশি কঠোর ও স্বচ্ছ অবস্থান নেবে।
মন্তব্য করুন