হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি ও হয়রানির অভিযোগ মারাত্মক আকার ধারণ করায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত শুরু করেছে।
প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা জিনিসপত্র ও মূল্যবান মালামাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চুরির ঘটনা চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি সৌদি প্রবাসী মনির হোসেনসহ বহু যাত্রীর লাগেজ কেটে বা চেইন খুলে জিনিসপত্র উধাও করে দেওয়ার ঘটনা সামনে আসায় বিমানবন্দরের লাগেজ ব্যবস্থাপনার ভঙ্গুর চিত্র மீண்டும் উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালে ১ হাজার ৩৮৭টি লাগেজসংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়লেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল মাত্র ১৫টি ক্ষেত্রে। আর ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসে জমা পড়েছে আরও ৯২২টি অভিযোগ।
এই লাগেজ চুরি, ক্ষতিসাধন এবং যাত্রী হয়রানির ধারাবাহিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ১১ সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গত ৩০ আগস্ট বেবিচকের সদর দপ্তরে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল রোববার (আজকের দিন বা নির্ধারিত দিনে) কমিটির সদস্যরা বিমানবন্দরে গিয়ে লাগেজ গ্রহণ, বাছাই, পরিবহন, লোডিং-আনলোডিং ও ডেলিভারি প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। তদন্ত কমিটির বৈঠকে উঠে এসেছে যে, অসাধু কর্মীরা কৌশলে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে লাগেজ নিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। যদিও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের জন্য বডি ক্যামেরা চালু করা হয়েছে, তবুও অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় ক্যামেরার ব্যবহার ও ফুটেজ সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতোমধ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ ও ইউএস-বাংলার ৩ জন কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল অভিযোগের ফাইল বন্ধ করে নিষ্পত্তি দেখানো নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের প্রকৃত প্রতিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এই অব্যবস্থাপনা দূর করার মূল সমাধান।