আধুনিক যুগে খেলাধুলা, বিনোদন এবং তা ঘিরে সৃষ্ট অতিরিক্ত উন্মাদনা নিয়ে মুসলিম সমাজে প্রায়ই দ্বিধা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকে মনে করেন ইসলামে বুঝি খেলাধুলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়েখ আহমাদুল্লাহ তার এক অনলাইন লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে খেলাধুলা ও বিনোদনের বিধান নিয়ে অত্যন্ত চমৎকার ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
শায়েখ আহমাদুল্লাহর মতে, ইসলাম কোনোভাবেই সুস্থ বিনোদন বা খেলাধুলাকে নিরুৎসাহিত করে না। বরং একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য ইসলাম বিনোদনের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকার করে। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা মানুষের স্বাভাবিক প্রয়োজনে পারিবারিক জীবনসহ প্রশান্তির বিভিন্ন উপায় রেখেছেন। তবে বিনোদনের নামে কৃত্রিম আনন্দের পেছনে ছুটে মানুষ আজ বিষণ্নতা ও অস্থিরতার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা আল্লাহপ্রদত্ত স্বাভাবিক প্রশান্তির পরিপন্থী।
খেলাধুলার ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি হলো উপকারিতা ও বৈধতা। শায়েখ আহমাদুল্লাহ উল্লেখ করেন, যেসব খেলায় শরীরচর্চা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শারীরিক সক্ষমতা বাড়ে, ইসলাম সেগুলোকে উৎসাহিত করেছে। নবী করিম (সা.) স্বয়ং হজরত আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন, যা শারীরিক সক্ষমতার প্রমাণ ও আনন্দের এক উৎস ছিল। এছাড়া ঘোড়দৌড় ও তীরন্দাজির মতো সাহসিকতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিকারী খেলাগুলোকেও ইসলামে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
আধুনিক ফুটবল বা ক্রিকেটের মতো খেলার বিষয়ে শায়েখ আহমাদুল্লাহ জানান, এসব খেলাধুলা বৈধ যদি তাতে কিছু শর্ত মেনে চলা হয়। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সতর ঢাকা থাকা, জুয়া বা বাজির অনুপস্থিতি এবং কোনো হারাম কাজে লিপ্ত না হওয়া। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈধ খেলাও যদি কারো জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যাঘাত ঘটায় কিংবা দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলার কারণ হয়, তবে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। আল্লাহকে স্মরণ থেকে গাফেল করে এমন যেকোনো বিনোদনই ইসলামে বর্জনীয়।
পাশাপাশি যেসব খেলায় শারীরিক উপকারিতা নেই এবং যা কেবল সময়ের অপচয় ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হয়, সেগুলোর প্রতি তিনি কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। পাশা খেলা বা জুয়ার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, যার মাধ্যমে এগুলোকে নৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পরিশেষে শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। এখানে বিনোদন থাকবে, শরীর চর্চা থাকবে, কিন্তু তা হতে হবে আল্লাহর নির্ধারিত নৈতিক সীমারেখার ভেতরে। জীবন যখন ইবাদত ও দায়িত্ব পালনের পরিপূরক হিসেবে বিনোদনকে গ্রহণ করে, তখনই মানুষ প্রকৃত সুখ ও প্রশান্তি লাভ করতে পারে।
খেলাধুলা ও বিনোদনের ক্ষেত্রে ইসলামের এই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আপনার মতামত কী? ভারসাম্য বজায় রেখে আমরা কীভাবে বিনোদনকে জীবনের অংশ করে তুলতে পারি বলে আপনি মনে করেন? আপনার মন্তব্য আমাদের জানাতে পারেন।
মন্তব্য করুন