|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 19, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের অর্থবছরের সময় পরিবর্তন: লাভ-ক্ষতি ও চ্যালেঞ্জসমূহ

প্রায় ৫৫ বছর ধরে চলে আসা প্রচলিত নিয়মে পরিবর্তন এনে বাংলাদেশের অর্থবছরের সময়সীমায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতদিন ধরে প্রতি বছরের পহেলা জুলাই থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত সময়কে অর্থবছর হিসেবে ধরে বাজেট প্রণয়ন, সরকারি আয়-ব্যয় এবং আর্থিক হিসাবনিকাশ করা হতো। তবে সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে পহেলা জুলাইয়ের পরিবর্তে পহেলা এপ্রিল থেকে নতুন অর্থবছর শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে অর্থবছর শেষ হবে ৩১শে মার্চ এবং মাঝের ট্রানজিশনাল সময় পার করতে হবে বিশেষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে।

এই পরিবর্তনের মূল যুক্তি হিসেবে সরকার মূলত আবহাওয়া এবং উন্নয়ন কাজের গুণগত মান বৃদ্ধির বিষয়টিকে সামনে এনেছে। সাধারণত জুন মাসে অর্থবছরের শেষ হওয়ায় এ সময়টাতে বর্ষাকাল শুরু হয়ে যায়। এর ফলে রাস্তাঘাট নির্মাণ, সেতু বা বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হয় এবং তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করার প্রবণতা দেখা দেয়। অর্থবছর এপ্রিল-মার্চে নিয়ে আসার ফলে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই শুষ্ক মৌসুমে বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত ও ভালোভাবে শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কাজের মান বাড়ার পাশাপাশি জনগণের দুর্ভোগও অনেকাংশে কমবে।

তবে দীর্ঘদিনের এই চেনা চক্র ভেঙে পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে নতুন ধারায় রূপান্তর করাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা তিন মাস এগিয়ে দিলেই কাঠামোগত সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ বাজেট বরাদ্দের বড় একটি অংশজুড়ে থাকে রাজস্ব ব্যয়, যার সঙ্গে বর্ষার তেমন কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা, দুর্নীতি এবং অনিয়মের মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে সংস্কার না আনলে শুধু সময় পরিবর্তনে সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

এই সিদ্ধান্ত সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে কেবল তারিখ বদলালেই চলবে না, বরং পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে নতুন চক্রে ঢেলে সাজাতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ বিভাগের সমস্ত সফটওয়্যার ও বাজেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম আপডেট করার পাশাপাশি আয়কর রিটার্ন, ভ্যাট এবং ব্যাংক-বিমার করবর্ষের সময়সীমা নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই কারিগরি ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে, সঠিক প্রস্তুতি এবং সার্বিক প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমেই কেবল অর্থবছরের এই পরিবর্তনের সুফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকা মেডিকেলে রোগী ও স্বজনদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থ

1

মাঝ আকাশে কাছাকাছি চলে এসেছিল ট্রাম্পের ‘মেরিন ওয়ান’ ও যাত্র

2

নাসিরুদ্দিন শাহর ‘কুকুর’ মন্তব্যে আগুনে ঘি ঢাললেন কঙ্গনা রান

3

পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানকে হাওরে ফেলে হত্যা করলেন বাব

4

ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য: বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংসের দ

5

আল-আকসার নিদর্শন সরানোর অপচেষ্টায় হামাসের হুঁশিয়ারি

6

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর নভেম্বরে ফিনালিসিমায় মুখোমুখি হতে পারে

7

নেইমারকে ৯০ মিনিট খেলাতে পারেন আনচেলত্তি

8

তাপদাহে মাতল সুরের উৎসব

9

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স থেকে মিলল ৪ বস্তা টাকা

10

হিমাচলে বাস উল্টে চালক-কন্ডাক্টরসহ নিহত ৮, আহত ১০

11

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশনা: ১০ কর্মদিবসে

12

র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল ম

13

বন্যায় প্রাণহানির জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন

14

ধর্মীয় প্রতীকের মর্যাদা রক্ষা প্রতিটি মুসলমানের ইমানি দায়িত্

15

রেকর্ড সংখ্যক জয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখল হংকং ও চাইনিজ ইউনিভার্

16

তাওহিদের ফিফটিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০৯

17

জাপান ম্যাচে নেইমারকে কেন বেঞ্চে বসিয়ে রাখলেন ব্রাজিলের কোচ

18

১৬৫ হার্জ রিফ্রেশ রেট ও নতুন ডিজাইনে আসছে আইকিউওও ১৬

19

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সঙ্গী ও বন্ধু

20