‘কোনো বাধা নয়, শুধুই পছন্দ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ২৬ সেপ্টেম্বর সারা দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস-২০২৬’। গর্ভনিরোধক সম্পর্কে সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সেবা সহজলভ্য করার মাধ্যমে ব্যক্তি ও দম্পতিকে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এই দিবসের মূল লক্ষ্য। তবে একদিকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট এবং অন্যদিকে কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের উচ্চ হার দেশের জনস্বাস্থ্য খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইউনিসেফ ও বিবিএসের ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের সন্তান জন্মের হার প্রতি হাজারে ৯২ জনে উন্নীত হয়েছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৮৩ জন। এছাড়া দেশে মোট প্রজনন হার বা টিএফআর ২০২২ সালের ২ দশমিক ১৫ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২ দশমিক ৪-এ দাঁড়িয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা জানান, গত দুবছর ধরে স্বাস্থ্য খাতের কিছু অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সহজলভ্য করা সম্ভব হয়নি, যা টিএফআর বৃদ্ধির অন্যতম বড় একটি কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাল্যবিয়ের হার কিছুটা কমলেও তা এখনো আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পুরুষের কম অংশগ্রহণের কারণে সব দায়িত্ব নারীদের ওপর বর্তাচ্ছে। নিরাপদ প্রজননস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ব্যাপক প্রচার ও জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন