ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার প্রভাব সরাসরি দেখা গেছে বিশ্ববাজারে, যেখানে অন্যান্য খাতের স্বস্তির বিপরীতে উল্টো বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা খানিকটা কমে আসা এবং তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটলেও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুটির মূল্য ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,০৮৭.৭৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারসও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৪,০৮৯.৯০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম চার শতাংশের বেশি কমে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের মান দুর্বল হয়ে পড়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়েছে, যা বাজারে এর চাহিদা বাড়াতে সরাসরি সহায়তা করেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও পাল্টা আক্রমণ স্থগিত রাখবে। এরই ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের পরামর্শে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের বোমা হামলা আপাতত স্থগিত রেখেছে।
বর্তমানে বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকদের মূল নজর আগামী ২৮-২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকে। ধারণা করা হচ্ছে যে এই দফায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে, যদিও সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখনো প্রায় ৭৬ শতাংশ বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধবিরতির পরোক্ষ প্রভাবে কেবল স্বর্ণ নয়, বরং এর পাশাপাশি রূপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে ১.৭, ১.৫ এবং ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটের দোলাচলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যবান ধাতুর এই দরপতন ও ঊর্ধ্বগতির ধারা বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন