|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিতে ইসরাইল ও বিশেষজ্ঞদের গভীর উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার ফলে ভবিষ্যতে সৌদি আরব নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা অর্জনের পথে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে। বুধবার (২২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান বহুল আলোচিত ‘১২৩ চুক্তি’ এবং একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা চুক্তিতে সই করেন। তবে এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ইসরাইল।

মার্কিন প্রশাসন চুক্তির বিস্তারিত জনসমক্ষে প্রকাশ না করলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে যে, এই যৌথ কাঠামোর অধীনে পরবর্তীতে সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের পথ উন্মুক্ত হতে পারে। ক্রিস রাইট দাবি করেছেন যে, এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধের মানদণ্ড বজায় রাখবে। তবে চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত প্রোটোকল অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিশেষজ্ঞরা আরও বিস্তৃত পরিদর্শন ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ৩০ বছর মেয়াদী এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পারমাণবিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব যদি নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্জন করে, তবে তা ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। অতীতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে সৌদি আরবও একই পথ অনুসরণ করবে। এদিকে, এই চুক্তির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর সাথে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো পূর্বশর্ত যুক্ত করা হয়নি। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক হাতিয়ার বিনা শর্তেই সৌদি আরবকে দিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেক কূটনৈতিক বিশ্লেষক।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতাও এই চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই বেসামরিক প্রযুক্তি সামরিক কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির কঠোর বিরোধিতা করছে, অন্যদিকে সৌদি আরবকে একই ধরনের সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দিচ্ছে এমন দ্বিমুখী নীতি নিয়ে মার্কিন মহলেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। চলমান এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তাপের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানে ট্রেন ভ্রমণে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা: বেসামরিক অবকাঠামোতে

1

২৪ ঘণ্টায় হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি

2

Côte d'Ivoire vs Norway: FIFA World Cup 2026 Round of 32 Pre

3

এইচএসসি পরীক্ষা ও ভুল প্রশ্ন নিয়ে সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ

4

France vs Morocco: FIFA World Cup 2026 Quarter-final Preview

5

মেসির পেনাল্টি ঠেকানোর স্বপ্ন: ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের

6

ইরানে সামরিক হামলা আপাতত স্থগিতের নির্দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্

7

ইরাক বনাম নরওয়ে ম্যাচ প্রেডিকশন: লাইনাপ, র‍্যাংকিং ও পরিসংখ

8

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক সংকট নিরসনে বিশেষ ক্যাবিনেট: জুলাইয়ে সুখবর

9

হঠাৎ কেন উত্তর কোরিয়া সফরে শি জিনপিং? কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক

10

একনেক সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

11

মদ-সিগারেটের দাম বৃদ্ধি বিরোধী দলের পছন্দ নয়: প্রধানমন্ত্রী

12

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলো সাবেক সেনা কর্

13

বিশ্ব ফুটবলে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে স্পেন: সাফল্যে

14

ফিফার রেফারিং নিয়ে তীব্র সমালোচনায় ড. আসিফ নজরুল

15

১৭ জেলায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস: নদীবন্দরে ১ নম্বর সত

16

বিদ্যুৎমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য: এমপি আমির হামজার

17

দীর্ঘ বিরতির পর মঞ্চে ফিরল জাগরণী থিয়েটারের ‘রাজার চিঠি’

18

ইসরাইলকে আইআরজিসির কড়া হুঁশিয়ারি

19

শারফুলের দুর্দান্ত বোলিং সত্ত্বেও রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে অস্ট্রেল

20