রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার দায়ে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। রবিবার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে, গত ৯ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন কর্তৃক আসামিদের ফাঁসির রায়ে স্বাক্ষরের পর ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) নথি হাইকোর্টে আসে। দেশের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, নিম্ন আদালতের যেকোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্টের চূড়ান্ত অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকায় এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখন উচ্চ আদালতে গড়াচ্ছে, যার অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেল আপিল আবেদন করেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা।
লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ মে সকালে, যখন পপুলার মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রামিসাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে ডেকে নেয় প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার। পরে রামিসার মা খুঁজতে গিয়ে প্রতিবেশীর দরজার সামনে মেয়ের জুতো দেখে সন্দেহবশত অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজনকে নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে। ঘটনার মাত্র ৪ দিনের মাথায় অভিযোগপত্র দাখিল এবং মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে গত ৭ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আদালত মূল আসামি সোহেল ও তার স্ত্রীকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। ফাঁসির পাশাপাশি আদালত সোহেলকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন, যা ভিকটিম রামিসার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ে নিম্ন আদালতের রায় ঘোষণার পর এখন উচ্চ আদালতেও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
মন্তব্য করুন